থানচির গভীরে সাঙ্গুর উপনদী রেমাক্রি খালে গর্জন করা নাফাখুম আর দেবতা পাহাড়ের ওপারে আমিয়াখুম — বাংলাদেশের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত দুই জলপ্রপাত। কিন্তু এই লেখা শুরু করতে হচ্ছে একটা জরুরি সত্য দিয়ে: বর্তমানে নাফাখুমে পর্যটক যাওয়ার ওপর প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা বলবৎ আছে। জেলার বড় প্রেক্ষাপটের জন্য পড়ুন বান্দরবান: মেঘ পাহাড়ের দেশ।
বর্তমান অবস্থা (সবার আগে পড়ুন)
- থানচি গাইড অ্যাসোসিয়েশন ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী (নভেম্বর ২০২৫-এর সংবাদ) নাফাখুম ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা এখনো কার্যকর; পর্যটকদের জন্য অনুমোদিত গন্তব্য তিন্দু এলাকা পর্যন্ত। আমিয়াখুমও অনুমোদিত তালিকায় নেই।
- এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা প্রাণঘাতী হতে পারে: ২০২৫ সালের নভেম্বরে নিবন্ধন ও গাইড ছাড়া নিষিদ্ধ এলাকায় ঢুকে নাফাখুমে সাঁতার কাটতে গিয়ে এক তরুণ পর্যটক নিখোঁজ হন; দুই দিন পর পানির নিচের গুহা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
- থানচিতে গেলে ট্যুরিস্ট ইনফরমেশন সেন্টারে নিবন্ধন ও প্রত্যয়িত গাইড নেওয়া বাধ্যতামূলক; অনুমোদিত-অননুমোদিত এলাকার তালিকা প্রশাসন সময়ে সময়ে বদলায় — যাওয়ার আগে থানচি উপজেলা প্রশাসন/গাইড অ্যাসোসিয়েশন থেকে সর্বশেষ অবস্থা জেনে নিন।
- এছাড়া অক্টোবর ২০২৬-এ থানচি-আলীকদম সড়কের তিন্দু সংযোগ অংশটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত পর্যটকবাহী যান চলাচল বন্ধের গণবিজ্ঞপ্তি জারি হয় — সড়কপথের পরিকল্পনায় এটি মাথায় রাখুন।
প্রপাত দুটির পরিচিতি
- নাফাখুম: প্রশস্ততায় দেশের অন্যতম বৃহত্তম জলপ্রপাত — পাথরের ধাপ বেয়ে ছড়িয়ে নামা পানির পর্দা দেখে একে ‘বাংলার নায়াগ্রা’ বলা হয়। বর্ষার পর (সেপ্টেম্বর-নভেম্বর) প্রবাহ সবচেয়ে জোরালো। নামের উৎস নিয়ে স্থানীয় মত: ‘নাফা’ এক প্রজাতির মাছ, ‘খুম’ অর্থ জলপ্রপাত।
- আমিয়াখুম: তিন্দু-পদ্মমুখ দিক থেকে দেবতা পাহাড় পেরিয়ে পৌঁছাতে হয়; পথে পড়ে ভেলাখুম ও সাতভাইখুমের মতো খুম। অপেক্ষাকৃত দুর্গম বলে আমিয়াখুমের পরিবেশ আরও বন্য ও নির্জন।
ক্লাসিক রুট (যেভাবে যাওয়া হতো — ভবিষ্যতের পরিকল্পনার জন্য)
যখন ভ্রমণ চালু ছিল, তখনকার প্রচলিত ধারা ছিল:
- বান্দরবান শহর থেকে জিপে থানচি (নীলগিরি-চিম্বুক হয়ে পাহাড়ি সড়ক)।
- থানচিতে প্রশাসন/বিজিবি ক্যাম্পে তালিকা জমা ও অনুমতি; প্রত্যয়িত গাইড ঠিক করা (বিকেল ৩টার পর রেমাক্রির উদ্দেশে ছাড়ার অনুমতি মিলত না)।
- সাঙ্গু নদীতে ইঞ্জিন নৌকায় রেমাক্রি (প্রায় ২–২.৫ ঘণ্টা; পথে পদ্মমুখ, তিন্দু, রাজাপাথর-বড়পাথর)।
- রেমাক্রি থেকে পাথুরে খাল ধরে পায়ে হেঁটে নাফাখুম (২–৩ ঘণ্টা); আমিয়াখুমের জন্য তিন্দু দিক থেকে আলাদা ট্রেক।
এখন থানচিতে গেলে যা করা যায়
অনুমোদিত সীমা পর্যন্ত সাঙ্গু নদীর নৌভ্রমণ, তিন্দুর বড়পাথর-রাজাপাথর, ডিম পাহাড় ভিউপয়েন্ট ও তামাতুঙ্গী — প্রশাসনের হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী। নদীপথের এই অভিজ্ঞতাই এখনকার থানচি ভ্রমণের মূল আকর্ষণ।
শেষকথা
নাফাখুম-আমিয়াখুম নিয়ে স্বপ্ন থাকুক — কিন্তু নিষেধাজ্ঞা উঠলে, নিবন্ধন ও গাইডসহ, নিরাপদ মৌসুমে যাওয়াই একমাত্র পথ। ততদিন অনুমোদিত থানচি উপভোগ করুন। জেলার তুলনামূলক সহজ গন্তব্য দেখতে পড়ুন লামা: প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের স্বর্গ।