বাণিজ্যিক এলাকা আগ্রাবাদের কংক্রিটের ভিড়ে হঠাৎ এক টুকরো সবুজ প্রশান্তি — জাম্বুরি পার্ক। এস এম মোরশেদ সড়কে মাত্র ৮.৫৫ একর জমির ওপর গড়া এই উদ্যান এখন বন্দর নগরীর সবচেয়ে জনপ্রিয় পার্কগুলোর একটি; প্রতিদিন হাজারের বেশি মানুষ এখানে হাঁটতে, জগিং করতে বা পরিবার নিয়ে সন্ধ্যা কাটাতে আসেন। শহরের ভেতরের এই স্পটগুলোই আমাদের সীতাকুণ্ড: একেক মৌসুমে একেক সাজ-এর পাহাড়ি গাইডের সুন্দর পরিপূরক।
মাঠ থেকে পার্ক: ছোট্ট ইতিহাস
জায়গাটি আগে পরিচিত ছিল জাম্বুরী মাঠ নামে — স্কাউটদের বিশাল সমাবেশ ‘জাম্বুরী’ আর খেলাধুলার জন্য বিখ্যাত এই মাঠ দীর্ঘদিন পরিত্যক্তপ্রায় ছিল। গণপূর্ত অধিদপ্তর এটিকে আধুনিক উদ্যানে রূপ দেয়; ২০১৮ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পার্কটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। জলাবদ্ধতা এড়াতে মাঠটি প্রায় তিন ফুট উঁচু করে তৈরি করা হয়েছে।
পার্কে যা যা আছে
- কৃত্রিম লেক ও ফোয়ারা: মাঝখানে প্রায় ৫০,০০০ বর্গফুটের জলাশয়; সন্ধ্যায় রঙিন আলোয় নৃত্যরত ফোয়ারার শো পার্কের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।
- ওয়াকওয়ে ও জগিং ট্র্যাক: লেক ঘিরে ও সীমানাজুড়ে প্রায় ৮,০০০ ফুট হাঁটার পথ — ভোরের হাঁটাহাঁটি ও শরীরচর্চার জন্য শহরের সেরা জায়গাগুলোর একটি।
- গাছ আর গ্যালারি: প্রায় ৬৫ প্রজাতির ১০ হাজার গাছ (সোনালু, জারুল, বকুল, নাগেশ্বর, চাঁপাসহ) পার্কটিকে পাখিদের আবাসও করেছে; আছে তিনটি গ্যালারি, এক শতাধিক বসার বেঞ্চ, ক্যাফেটেরিয়া আর কাচের সেতু (গ্লাস ব্রিজ)।
- গেট: চারদিকে মোট ছয়টি প্রবেশপথ আছে, ফলে যেকোনো দিক থেকে ঢোকা সহজ। পাশেই আগ্রাবাদ শিশু পার্ক — বাচ্চাসহ গেলে দুটো একসঙ্গে ঘোরা যায়।
সময়, প্রবেশ ও টিপস
- প্রবেশ সম্পূর্ণ ফ্রি — কোনো টিকিট লাগে না।
- সময়: সাধারণত ভোর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে (সূত্রভেদে সময়ে কিছুটা হেরফের দেখা যায়; সকালে জগিং আর সন্ধ্যায় আলোর জন্য দুটি পৃথক ভিড়ের সময় থাকে)।
- সেরা সময়: ফোয়ারা ও আলোকসজ্জার জন্য সন্ধ্যা নামার পর; শান্ত পরিবেশ চাইলে কর্মদিবসের সকাল। শুক্রবার ও ছুটির দিনে বিকেল ৪টার পর প্রচণ্ড ভিড় হয়।
- পার্কের পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করুন — আবর্জনা নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলুন, লেকের পানিতে কিছু ছুড়বেন না।
কীভাবে যাবেন
আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার যেকোনো বাস/সিএনজি রুটে এস এম মোরশেদ সড়ক — জিইসি মোড় বা লালদীঘি থেকে সিএনজিতে ১০-১৫ মিনিট। গাড়ি নিয়ে গেলে আশপাশে পার্কিং খুঁজতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
জাম্বুরি পার্কে প্রবেশ ফি কত?
সম্পূর্ণ ফ্রি — টিকিট লাগে না।
পার্কটি কখন সবচেয়ে সুন্দর?
সন্ধ্যার পর — লেকের ফোয়ারা ও রঙিন আলোয়।
পরিবার নিয়ে সারাদিন কাটানো যায়?
পার্কে আধা-বেলা আরামসে কাটে; সঙ্গে শিশু পার্ক ও আগ্রাবাদের খাবারের দোকান মিলিয়ে পুরো বিকেলের প্ল্যান হয়ে যায়।
শেষকথা
শহরের ভিড়ের মধ্যে নিশ্বাস নেওয়ার জায়গা হিসেবে জাম্বুরি পার্ক চট্টগ্রামবাসীর প্রাপ্য ছিল অনেক আগেই। পুরনো শহরের ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এরপর ঘুরে দেখুন লালদীঘি: চট্টগ্রামের ঐতিহ্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি। শহরের সবুজ বাঁচিয়ে রাখি আমরা সবাই!