• 02 Nov, 2026

ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক ভ্রমণ গাইড: বাঘ-সিংহ-হাতির খোলা রাজ্যে একদিন

ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক ভ্রমণ গাইড: বাঘ-সিংহ-হাতির খোলা রাজ্যে একদিন

চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের সম্পূর্ণ গাইড — দেশের প্রথম সাফারি পার্কে বাঘ, সিংহ, হাতি, জলহস্তী ও জেব্রার খোলা বিচরণ, সাফারি বাস, হালনাগাদ টিকিট (প্রাপ্তবয়স্ক ১০০ টাকা), খোলার সময় ও সাপ্তাহিক বন্ধের দিনসহ পরিবার নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা।

খাঁচায় বন্দী প্রাণী নয় — এখানে উল্টোটা: মানুষ থাকে সীমানার ভেতরে, প্রাণীরা ঘোরে খোলা বনে। চকরিয়ার ডুলাহাজারায় প্রায় ৯০০ হেক্টর পাহাড়ি বনজুড়ে গড়ে ওঠা ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক দেশের প্রথম সাফারি পার্ক; শুরুতে হরিণ প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে যাত্রা করে আজ এটি শত শত বন্যপ্রাণীর ঠিকানা। কক্সবাজার বেড়াতে গিয়ে পরিবার-শিশুদের নিয়ে অর্ধেক দিনের জন্য এর চেয়ে মজার গন্তব্য কমই আছে। বন্যপ্রাণী-প্রকৃতি নিয়ে আমাদের আগ্রহের ধারাবাহিকতায় আগের লেখা সীতাকুণ্ড: একেক মৌসুমে একেক সাজ-ও পড়ে দেখতে পারেন।

পার্কে যা যা দেখবেন

  • বড় বিড়ালের জগৎ: বেঙ্গল টাইগার ও সিংহ বড় বেষ্টনীতে থাকে; বিকেলে খাওয়ানোর সময় (৫টার পর) তাদের সবচেয়ে সক্রিয় দেখা যায়। বাঘ-সিংহের খোলা সাফারি জোনে বিশেষ সুরক্ষিত যানে ঘোরার ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি চলছে — চালু হলে অভিজ্ঞতাটা হবে একদম অন্য মাত্রার।
  • তৃণভোজীদের খোলা রাজ্য: হাতি, জেব্রা, ওয়াইল্ডবিস্ট (নু-হরিণ), নীলগাই, সাম্বার, চিত্রা ও মায়া হরিণ, গয়াল — সাফারি বাসে চড়ে এদের বিচরণক্ষেত্রের ভেতর দিয়ে যাওয়াই পার্কের মূল অভিজ্ঞতা। পৃথক টিকিটে সাফারি বাস চলে নির্দিষ্ট সময়ে — গেটে সময়সূচি জেনে নিন।
  • জলহস্তী, কুমির ও সরীসৃপ: ডজনখানেক জলহস্তীর পুকুরবাস, দুই প্রজাতির কুমির (স্বাদু ও লোনা পানির), অজগরসহ সরীসৃপ বিভাগ শিশুদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ।
  • ভালুক, বানর আর পাখির রাজ্য: এখানে ভালুকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য; ময়ূর ঘোরে অনেকটা স্বাধীনভাবে, পাখি বিভাগে দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতি; শীতে লেকগুলোতে ভিড় করে অতিথি পাখি।
  • শুধু প্রাণী নয়, গাছেরও ভান্ডার: গবেষকদের হিসাবে এই বন শত শত প্রজাতির দেশি গাছ, লতাগুল্ম ও অর্কিডের ভান্ডার — পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকে বনের বিস্তার দেখলে তা টের পাওয়া যায়। পার্কের আশপাশের বন দীর্ঘদিন ধরে বন্য হাতির চলাচলের পথও বটে।

টিকিট, সময় ও বন্ধের দিন

  • প্রবেশ টিকিট: প্রাপ্তবয়স্ক ১০০ টাকা, শিশু (৬–১২ বছর) ৫০ টাকা (সাম্প্রতিক হার; বিদেশি পর্যটক ও শিক্ষার্থী-গ্রুপের আলাদা হার আছে — টিকিট কাউন্টারে যাচাই করুন)। সাফারি বাসের টিকিট আলাদা।
  • সময়: সকাল ৯টা – বিকেল ৫টা। সাপ্তাহিক বন্ধ: সাধারণত মঙ্গলবার — ছুটির পরিকল্পনা সেই অনুযায়ী করুন।
  • সেরা সময়: সকাল সকাল ঢুকলে প্রাণীরা সক্রিয় থাকে, ভিড়ও কম; মৌসুমে দিনে গড়ে হাজার তিনেক দর্শনার্থী আসেন, তাই ছুটির দিনে আগেভাগে পৌঁছানোই ভালো। পুরো পার্ক ঘুরতে ৩–৪ ঘণ্টা হাতে রাখুন — হাঁটার অংশ অনেক, আরামদায়ক জুতো পরুন।

যাতায়াত

পার্কটি চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের পূর্ব পাশে — কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার উত্তরে, চকরিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার। কক্সবাজার বা চট্টগ্রাম — দুই দিক থেকেই মহাসড়কের বাসে চকরিয়া/ডুলাহাজারা নেমে অল্প পথ অটোরিকশায় গেট পর্যন্ত। নিজের গাড়ি থাকলে মহাসড়ক ধরে সরাসরি গেটে পৌঁছানো যায়; ভেতরে ও গেটের কাছে খাবারের দোকান ও ক্যাফেটেরিয়া আছে, শিশুদের খেলার জায়গাও রয়েছে — পিকনিকের আমেজে দিন কাটানো যায়।

দর্শনার্থীদের জন্য নিয়ম

  • প্রাণীদের দিকে খাবার বা ঢিল ছোড়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ; বেষ্টনীতে হাত দেওয়া বা বাইরে বের হওয়া যাবে না।
  • সাফারি বাসে চলাচলের সময় জানালা-দরজার নির্দেশ মেনে চলুন, প্রাণী ডাকাডাকি করে বিরক্ত করবেন না।
  • প্লাস্টিক ও বর্জ্য নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলুন — এটি সংরক্ষিত বন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক কবে বন্ধ থাকে?

সাধারণত মঙ্গলবার সাপ্তাহিক বন্ধ; অন্যান্য দিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

সাফারি বাসের টিকিট কি প্রবেশ টিকিটের মধ্যেই?

না — প্রবেশ টিকিট আর সাফারি বাসের টিকিট আলাদা; বাসের সময়সূচি গেটে জেনে নিন।

কক্সবাজার থেকে দিনে গিয়ে ফেরা যাবে?

অবশ্যই — প্রায় ৫০ কিলোমিটারের পথ; সকালে বেরিয়ে বিকেলে ফেরাই সবচেয়ে জনপ্রিয় ধারা।

শেষকথা

সৈকত-পাহাড়ের বাইরে কক্সবাজার জেলার আরেক মুখ ডুলাহাজারা — যেখানে শিশুরা প্রথমবার চোখের সামনে দেখে বাঘের হুঙ্কার আর হাতির দল। প্রকৃতির এই পাঠশালা ঘুরে আসুন নিয়ম মেনে; আর বুনো পাহাড়ের আসল রাজ্যে যেতে চাইলে সঙ্গী হোক বান্দরবান - মেঘ পাহাড়ের দেশ। আপনার পারিবারিক ভ্রমণ হোক আনন্দময়!